- আসাদুল্লাহ আল গালিব
আমাদের স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিগুলোতে অনেক কিছু শেখায়। বাংলা, ইংরেজি, সাহিত্য, কিংবা গণিত, রসায়ন, পদার্থ – অনেক কিছুই শেখায়। এসবের পাশাপাশি আরও শেখায় নাচ-গানের মতো অর্থহীন জিনিসও। কিন্তু শেখায় না জীবনে চলার জন্য অসম্ভব জরুরি কিছু বিষয়। তেমনই একটি বিষয় হলো Financial Literacy বা আর্থিক স্বাক্ষরতা। সিলেবাসে অর্থনীতির তাত্ত্বিক আলোচনা থাকলেও, থাকে না দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার মতো সরল কোনো নির্দেশনা।
আমরা মনে করি—কিশোর বয়স থেকে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সঠিক ও সহজ পরিকল্পনা নিলে পরবর্তীকালে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়তে হবে না, ইনশাআল্লাহ। সে লক্ষ্যেই অর্থনৈতিক মুক্তি নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম শিক্ষামূলক ধারাবাহিক সিরিজ ‘যা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে শেখায় না’।
গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা ও সুফল নিয়ে। আশা করি যারা সেটি পড়েছ, তারা ইতোমধ্যেই এটি প্র্যাকটিস করা শুরু করেছ। যারা প্র্যাকটিস করা শুরু করেছ, তারা ষোলো’র ফেসবুক পেইজে তোমার অনুভূতি ও উন্নতির ব্যাপারে জানাতে পারো। আর যারা লেখাটি এখনো পড়োনি, তারা ঝটপট ষোলো’র ওয়েবসাইট থেকে পড়ে নাও।
এবারের পর্বে আলোচনা করব সঞ্চয়ী মানসিকতা (savings mindset) গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। টাকা উড়ানোর বদলে নিয়মিত একটুআধটু সঞ্চয় করতে পারলে, তা দিয়ে একসময় বড় ইচ্ছে পূরণ করা সম্ভব, ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে দুটো পয়েন্টে আলোচনা করব—
- সঞ্চয়ী মানসিকতার প্রয়োজনীয়তা
- এক্সট্রা সঞ্চয়ের ট্রিকস
খরুচে নয়, সঞ্চয়ী মানসিকতা গড়ে তুলো
মানুষ সাধারণত দু’ ধরনের হয়। সঞ্চয়ী এবং খরুচে। যারা খরুচে, মানে টাকা উড়িয়ে বেড়ায়, তাদের অধিকাংশই বলে—তারা নাকি কোনোদিনই বদলাতে পারবে না। কিন্তু এটা মোটেও সত্য নয়। আসলে তারা বদলাতে চায় না বলেই বদলায় না। তাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছে, যারা ঋণ করে হলেও টাকা উড়াবে। তবুও উড়াবে। সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করার মতো ইচ্ছেটাই তাদের নেই। কিন্তু যদি তারা সত্যিই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে চায়, তবে তারা অবশ্যই পারবে। এটি পুরোপুরি তাদের মানসিকতার ওপর নির্ভর করবে।
এই খরুচে ভাইয়েরা যেমন টাকা উড়িয়ে আনন্দ পায়, তেমনি তুমি সঞ্চয় করে আনন্দ পেতে পারো। এটিও তোমার ইচ্ছের ওপর নির্ভর করবে। যখনই তুমি অহেতুক খরচের বদলে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবে, তুমি দেখবে এটি তোমার জীবনে এক দারুণ পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
প্রতি মাসে মাত্র ১০০/২০০ টাকা করে জমালেও, বছর শেষে তোমার কাছে ১২০০/২৪০০ টাকা হয়ে যাবে। যা দিয়ে তুমি তোমার কোনো শখ পূরণ করতে পারবে। চাইলে তোমার ছোট ভাই-বোন বা আব্বু-আম্মুকেও গিফট দিতে পারবে। এতে তারা অনেক খুশি হবে। বা জমানো টাকা দিয়ে উপকারী বই কিনতে পারবে, স্কিল শিখতে পারবে।
অর্থাৎ, তুমি যদি খরুচে না হয়ে সঞ্চয়ী মানসিকতা গড়ে তুলতে পারো, তাহলে এক সময় তুমি তোমার অনেক প্রয়োজন ও শখ পূরণ করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
প্রতিটি সালামি বা অতিরিক্ত আয়ের ৫০% সঞ্চয় করো
অনেকেই তাদের জীবনে অতিরিক্ত ইনকামকে নিয়মিত আয়ের অংশ হিসেবে ধরে নেয়। এটি আর্থিক সংকটে পড়ার একটি করুণ মানসিকতা। মনে রাখবে—সালামি বা বোনাস কোনো নিশ্চিত আয় নয়। প্রতিবছর এগুলো পরিবর্তন হতে পারে, কখনো কখনো একেবারেই নাও আসতে পারে। তখন তুমি আর্থিক সংকটে পড়ে যেতে পারো।
তাই সালামি বা বোনাসকে নিয়মিত আয় ভাবা বাদ দাও। এগুলোকে সিলেবাসের বাইরের ইনকাম হিসেবে নাও। তাই এর ২০% দিয়ে তোমার কোনো ছোট শখ পূরণ করো, ৩০% দিয়ে অতি প্রয়োজনীয় কিছু কেনো। বাকি ৫০% জমাও বা কিছু জমিয়ে রেখে বাকিটা কোনো হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করো।
মনে রাখবে, যখন তুমি এই অতিরিক্ত আয়ের ৫০% সঞ্চয় করতে পারবে, তখনই এই সালামি বা বোনাস পাওয়ার প্রকৃত আনন্দ উপলব্ধি করতে পারবে। তখনই এগুলো সত্যিকারের অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হবে। তাই অপ্রত্যাশিত বা অতিরিক্ত আয়কে আর্থিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাও।
একটি বিষয়ে না বললেই নয়। টাকা জমানো মানেই কিন্তু কৃপণতা না। কিংবা দান-সাদাকাহ থেকেও হাত গুটিয়ে নেওয়া না। প্রয়োজনীয় খরচে কৃপণতা না করে এবং দান-সাদাকাহ জারি রেখেই টাকা জমানোর অভ্যাস করতে হবে। আল্লাহ তোমার রিযিকে বারাকাহ দান করুন। তোমার জন্য শুভকামনা রইল। আবারও কথা হবে পরবর্তী সংখ্যায়, নতুন কোনো টিপস নিয়ে ইনশাআল্লাহ।
